যমুনা চরে চীনা বাদামের বাম্পার ফলনে কৃষকের আনন্দ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যমুনা চরে চীনা বাদামের বাম্পার ফলনে কৃষকের আনন্দ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 23, 2026 ইং
যমুনা চরে চীনা বাদামের বাম্পার ফলনে কৃষকের আনন্দ ছবির ক্যাপশন:

বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চল একসময় ছিল অনাবাদি, বালুচর আর ধু-ধু প্রান্তর। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চরই এখন সবুজে ভরপুর এক সম্ভাবনাময় কৃষিক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চীনা বাদাম চাষে এ অঞ্চলের কৃষকেরা পেয়েছেন নতুন জীবনের স্বাদ।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষায়, যমুনার চরে এখন যে বাদাম উৎপাদন হচ্ছে তা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বদলে দিচ্ছে। একসময় যে জমিগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল, সেগুলো পুনরায় জেগে ওঠার পর প্রথমদিকে অনাবাদি পড়ে থাকলেও গত এক দশকে সেখানে ব্যাপকভাবে বাদাম চাষ শুরু হয়। এখন প্রায় পুরো চরাঞ্চলজুড়ে শুধু বাদামই প্রধান ফসল হিসেবে আবাদ হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের বালুময় মাটি অন্য ফসলের জন্য খুব একটা উপযোগী না হলেও চীনা বাদাম চাষে এটি অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়ার কারণে এই ফসল এখন তাদের কাছে “সাদা সোনা” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক আবু তালেব জানান, বাদাম চাষে খুব বেশি যত্ন বা খরচ লাগে না। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে বীজ বপন করা হয় এবং সামান্য সার ও পরিচর্যায় ভালো ফলন পাওয়া যায়। তার মতে, প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় মাত্র দেড় হাজার টাকার মতো, যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

অন্যদিকে নিউসারিয়াকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল কাসেম জানান, বর্তমানে বাজারে কাঁচা বাদাম প্রতি মণ ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুকনো বাদামের দাম আরও বেশি, যা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। ফলে প্রতি বিঘা জমিতে ভালো লাভ হচ্ছে এবং অনেক কৃষক এখন এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৭ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া, কম রোগবালাই এবং কৃষকদের পরিশ্রমের কারণে এ বছর ফলন লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, যমুনার চরাঞ্চলে বাদাম চাষ এখন অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। সরকারিভাবে কৃষকদের উন্নত বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যদি এই অঞ্চলে সঠিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা এবং সরকারি সহায়তা আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাদাম চাষ দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

একসময় নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো এখন আবার সেই চরের জমিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। যমুনার এই চরাঞ্চল তাই শুধু কৃষির নয়, বরং পুনর্জাগরণেরও এক নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।a


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভোটের আগে জয়ের হিসাব কষছে বিএনপি

ভোটের আগে জয়ের হিসাব কষছে বিএনপি