মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোরে দক্ষিণ ও মধ্য ইসরাইলের একাধিক শহর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে।
টাইমস অব ইসরাইল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় রামাত গান এলাকায় একটি ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দমকল ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। বিশেষ করে ক্লাস্টার বোমা হামলার কারণে ওই এলাকায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রোশ হাইয়িন পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি উচ্চ-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত নিওত হোভাব শিল্পাঞ্চলেও হামলার প্রভাব পড়েছে। সেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটলেও পরে দমকল বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইসরাইল জরুরি পরিষেবা সংস্থা জানিয়েছে, বনি ব্রাক শহরে হামলার ফলে ভেঙে পড়া কাঁচের আঘাতে অন্তত একজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে।
এছাড়া ওয়াইনেট-এর তথ্য অনুযায়ী, রোশ হাইয়িনের একটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। পাশাপাশি পেতাহ তিকভা শহরের একটি ভবন এবং তেল আবিব-এর বিভিন্ন সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও জানা গেছে, গিভাতায়িম এলাকাতেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ইসরাইল-ইরান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতিই নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অগ্নিকাণ্ড এবং আতঙ্ক—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক