উদ্বোধনের চারদিন পর রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

উদ্বোধনের চারদিন পর রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 3, 2026 ইং
উদ্বোধনের চারদিন পর রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ছবির ক্যাপশন:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় সদ্য নির্মিত একটি ইটের রাস্তা ভেঙে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণের মাত্র চারদিন পরই রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের চরনবীপুর গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি পরিবারের যাতায়াতের সুবিধার্থে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ১০ ফুট প্রস্থ এবং ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ইটের রাস্তা নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের সমস্যায় ভোগা এসব পরিবারের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ।

গত ২৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তাটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশফিকা হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুশফিকুর রহমান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র চারদিন পরই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২ মে বিকেলে গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপির সাবেক সভাপতি আফসার আলীর নেতৃত্বে একদল লোক এসে রাস্তার সব ইট তুলে নিয়ে যায়। ফলে আবারও চলাচলের পথ সংকটে পড়ে ওই এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য শিউলী খাতুন জানান, এই রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে কয়েকটি পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে ফেলার ঘটনায় তারা আবারও বিপাকে পড়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবেই এই কাজটি করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আফসার আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি আসলে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি। সেই জমি দখলমুক্ত করতেই ইটগুলো সরানো হয়েছে।

জানা গেছে, ওই জমিটি স্থানীয় করতোয়া ডিগ্রি কলেজের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউসুফ আলী ও রফিক প্রামাণিকসহ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা এই জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতেন। তবে সম্প্রতি প্রতিবেশী মিনা খাতুন সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেন। এতে কয়েকটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

প্রায় ২০ দিন ধরে চলাচলে চরম ভোগান্তির পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে তৎকালীন ইউএনও মাশফিকা হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করে সমস্যার সমাধানে ওই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে সাময়িকভাবে হলেও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পান স্থানীয়রা।

তবে নতুন করে রাস্তা ভেঙে ফেলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনার ফলে স্থানীয়ভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, জমির মালিকানা এবং রাজনৈতিক প্রভাব—সবকিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান চান, যাতে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত আর বাধাগ্রস্ত না হয়।

সব মিলিয়ে, একটি ছোট রাস্তা ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিরোধ এখন বড় ধরনের সামাজিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দিকেই এখন সবার নজর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হঠাৎ অসুস্থ সারজিস আলম, হাসপাতালে ভর্তি

হঠাৎ অসুস্থ সারজিস আলম, হাসপাতালে ভর্তি