পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়নে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং জরাজীর্ণ পুল-কালভার্টের দুর্ভোগ কাটিয়ে এখন নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে এই জনপদ।
৪৭তম মহান মে দিবস উপলক্ষে ‘সবার আগে বলদিয়া’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আবারও তাদের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নজির স্থাপন করেছে। গত শুক্রবার ও শনিবার তারা বিন্না ও সোনারঘোপ গ্রামের সংযোগ সড়কে ৩টি নতুন পুল নির্মাণ করে সোনারঘোপ, খেজুরবাড়ী, লেবুবাড়ী ও কাঠাপিটানিয়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ দূর করেছে।
একসময় এসব এলাকার মানুষকে বাঁশের সাঁকো বা ভাঙা কাঠের পুল দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতেন।
জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় এলাকাবাসী নিজেরাই উদ্যোগ নেয়। কৃষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে ‘সবার আগে বলদিয়া’ সংগঠনটি। তাদের স্বেচ্ছাশ্রম ও ক্ষুদ্র অর্থায়নে মাত্র আট মাসে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ৬৮টি পুল নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে, পাশাপাশি তৈরি হয়েছে একাধিক মাটির সড়ক।
প্রতি সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে সদস্যরা একত্রিত হয়ে কাজ করেন। বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক সদস্য এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাদের এই প্রচেষ্টায় এখন এলাকাবাসী সহজেই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনে চলাচল করতে পারছেন।
স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং গ্রামীণ ঐক্য, আত্মনির্ভরতা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বিশেষ করে হিন্দু অধ্যুষিত চারটি গ্রামের মানুষের জন্য এই উদ্যোগটি যেন নতুন জীবনের স্বস্তির সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
সংগঠনের সভাপতি মো. মাসুদ পারভেজ জানান, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই তাদের কাজের প্রধান প্রেরণা। সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়—এই বিশ্বাস থেকেই তাদের যাত্রা শুরু।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমিত সরকারি সহায়তার মধ্যেও জনগণের নিজস্ব উদ্যোগে এমন বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব—বলদিয়া তার বাস্তব প্রমাণ।
কসমিক ডেস্ক