নতুন পারমাণবিক জ্বালানি কেন্দ্র উন্মোচন, শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা কিমের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নতুন পারমাণবিক জ্বালানি কেন্দ্র উন্মোচন, শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা কিমের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 4, 2026 ইং
নতুন পারমাণবিক জ্বালানি কেন্দ্র উন্মোচন, শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা কিমের ছবির ক্যাপশন: নতুন পারমাণবিক জ্বালানি কেন্দ্র উন্মোচন, শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা কিমের

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ‘অকল্পনীয় হারে’ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার পিয়ংইয়ং একটি নতুন পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন স্থাপনা উন্মোচন করেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই স্থাপনাটি সম্ভবত একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ দাবি করেছে, নতুন স্থাপনাটিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এটি কোথায় অবস্থিত বা কবে থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশিত ছবিতে একটি বড় হলঘর দেখা গেছে, যেখানে সারিবদ্ধভাবে সেন্ট্রিফিউজ বসানো রয়েছে। এই সেন্ট্রিফিউজগুলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং এটি পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন বুধবার নতুন এই স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং এর উৎপাদন সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন। সেখানে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রুদের সঙ্গে সংঘাতের কারণে দেশের পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে গুণগত ও পরিমাণগতভাবে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।’ এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি ইঙ্গিত ছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিম উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিভিন্ন অনির্দিষ্ট হুমকি ও সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে দেশটির অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

নতুন এই কেন্দ্র উন্মোচনের ঘটনা ঘটেছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আরেকটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার পর, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। এর আগেও ২০১০ সালে ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে একটি সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সামনে প্রদর্শন করেছিল পিয়ংইয়ং।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম—দুই উপাদান দিয়েই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব। উত্তর কোরিয়ার ইয়ংবিয়ন নিউক্লিয়ার সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টারে এই দুই ধরনের উপাদান উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর থেকে উত্তর কোরিয়া আর কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। তবে গত কয়েক বছরে দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।

২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা জানান, তখন উত্তর কোরিয়ার কাছে আনুমানিক ২০ থেকে ৬০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, বর্তমানে দেশটির কাছে ১০০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে এবং এটি প্রতিবছর আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ফেরার আহ্বানও বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি চলতি বছরের এপ্রিলে জানান, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে কার্যক্রমের ‘উল্লেখযোগ্য ও দ্রুত বৃদ্ধি’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
২১ বছর পর শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

২১ বছর পর শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছেন তারেক রহমান