সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা সাতটি মামলার মধ্যে এক মামলায় জামিন পেয়েছেন। একই সঙ্গে বাকি ছয় মামলায় তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৩ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীপু মনির বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক মামলায় জামিন পেলেও বাকি ছয় মামলার বিষয়ে এখন হাইকোর্টের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণের অপেক্ষায় থাকতে হবে তাকে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দীপু মনির বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে এক মামলায় তিনি জামিন পেলেও বাকি ছয়টি মামলায় এখনও জামিন প্রক্রিয়া নিয়ে আদালত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন ওই ছয় মামলায় তাকে জামিন দেওয়া হবে না। আইনগতভাবে এই রুলের জবাবের ওপরই পরবর্তী শুনানি ও সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে ডা. দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি এবং সহিংসতার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগসহ মোট ৩৮টিরও বেশি মামলা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
বর্তমান মামলাগুলোর মধ্যে কিছু মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং কিছু মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে তার আইনি অবস্থান এখন একাধিক মামলার ওপর নির্ভরশীল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক মামলার ক্ষেত্রে একটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় জামিন না থাকলে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না। তাই বাকি মামলাগুলোর রুল ও শুনানি তার ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, দীপু মনির মামলাগুলো নিয়ে হাইকোর্টের এই সাম্প্রতিক আদেশ রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেয় তার ওপর।
কসমিক ডেস্ক