বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে Japan। দীর্ঘদিনের কঠোর অস্ত্র রপ্তানি নীতি শিথিল করে দেশটি এখন Ukraine-কে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপানে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত Yurii Lytovynov এই পদক্ষেপকে ‘বিরাট অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে টোকিও সরাসরি কিয়েভকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারবে—যা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপান সাধারণত যুদ্ধবিদ্ধস্ত কোনো দেশে অস্ত্র রপ্তানি থেকে বিরত থেকেছে। দেশটির শান্তিবাদী সংবিধান ও নীতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে বহাল ছিল। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সেই অবস্থানকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী Sanae Takaichi সম্প্রতি এই নীতিতে আংশিক শিথিলতা এনেছেন। বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে অস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জাপান এই পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যদিও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সরাসরি অস্ত্র রপ্তানিতে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে জাপানের নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। টোকিও মনে করে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Russia যদি ইউক্রেনে প্রভাব বিস্তার করতে সফল হয়, তাহলে তা China-কে Taiwan নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই জাপান ইউক্রেনকে শক্তিশালী করতে আগ্রহী।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Fumio Kishida-ও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আজকের ইউক্রেনই হতে পারে আগামীকালের পূর্ব এশিয়া।” বর্তমান সরকারও সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছে।
শুধু সামরিক সরঞ্জাম নয়, জাপান ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক সহায়তা দিতেও আগ্রহী। ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প থাকলেও তহবিলের অভাব রয়েছে। টোকিও যদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে বিনিয়োগ করে, তাহলে কিয়েভের Patriot missile system-এর ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।
এছাড়া NATO-এর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে জাপান ইউক্রেনকে গোলাবারুদ বা অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ে সহায়তা করতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
তবে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করতে হলে দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রয়োজন হবে। জাপান ইতিমধ্যেই ১৮টি দেশের সঙ্গে এমন চুক্তি করেছে এবং ইউক্রেনও এখন সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, জাপানের এই নীতিগত পরিবর্তন শুধু ইউক্রেন যুদ্ধেই নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতে জাপান আরও সক্রিয় সামরিক ও কৌশলগত ভূমিকা নিতে প্রস্তুত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পরিবর্তনের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
কসমিক ডেস্ক