ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে সতর্ক করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে হলে অবশ্যই কংগ্রেসের আইনগত কর্তৃত্ব মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলমান রয়েছে। এই আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং সংঘাতের আশঙ্কাও প্রকাশ্যে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা আশঙ্কা করছেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব থাকলেও যুদ্ধ ও সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়।
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেবি ওয়াসারম্যান শুলটজ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনায় বসে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা—কেন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এত বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং কেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের ব্যাখ্যা ছাড়া যুদ্ধের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
ডেবি ওয়াসারম্যান শুলটজ আরও স্মরণ করিয়ে দেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিয়েছিলেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, অতীতের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করাই সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার জন্য জরুরি।
এদিকে মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ইরান আক্রমণের বিষয়ে তাদের উদ্দেশ্য ও কারণ পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করেনি। পাশাপাশি কংগ্রেসের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমোদনও চাওয়া হয়নি। চাক শুমারের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার একমাত্র কর্তৃত্ব কংগ্রেসের হাতে রয়েছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা শুধু সাংবিধানিক সংকটই সৃষ্টি করবে না, বরং ভবিষ্যতে আরও জটিল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সেন্ট্রাল আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য জ্যাক রিড সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানকে আক্রমণ করা একটি গুরুতর কৌশলগত ভুল হতে পারে। তিনি এই ধরনের পদক্ষেপের অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জ্যাক রিড বলেন, যুদ্ধ শুরু করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও তা শেষ করা অত্যন্ত কঠিন। তার মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতেও পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এই হুঁশিয়ারিকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। সামনে এই বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কী অবস্থান নেয়, তা আন্তর্জাতিক মহলেও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।