রংপুরে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল নারীর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রংপুরে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল নারীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 29, 2026 ইং
রংপুরে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল নারীর ছবির ক্যাপশন:

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে সাহেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যেই দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় মানুষজন। এরই মধ্যে দুপুরের রান্নার জন্য খড়ি (জ্বালানি কাঠ) সংগ্রহ করতে বাড়ির পাশের এলাকায় যান সাহেরা বেগম।

হঠাৎ করে আকাশে বজ্রপাত হলে তিনি সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান।

নিহত সাহেরা বেগম কাজীপাড়া গ্রামের মজিবর হোসেনের স্ত্রী ছিলেন। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন বলে জানা গেছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক, আর পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে শোকাবহ পরিবেশ।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরের সময় বজ্রসহ বৃষ্টি চলাকালে তিনি বাইরে ছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতের কারণে তিনি এ দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাটি এলাকায় সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনছুর পাঠোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুপুরে বৃষ্টির সময় তিনি বাইরে যাওয়ায় বজ্রপাতে আক্রান্ত হন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।”

এদিকে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাত একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে বর্ষা ও প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে বজ্রপাতের সংখ্যা ও তীব্রতা উভয়ই বেড়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে শতাধিক মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এর বড় অংশই কৃষক, শ্রমজীবী এবং গ্রামীণ নারী-পুরুষ, যারা খোলা জায়গায় কাজ করেন বা বৃষ্টির সময় বাইরে থাকেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা, বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বা ধাতব বস্তুর কাছাকাছি থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় সচেতনতার অভাবেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।

করণীয় বিষয়ে তারা জানান, বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করা এবং খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় দ্রুত সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নিহত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সব মিলিয়ে রংপুরের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে বজ্রপাত এখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে, যা থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সচেতনতা ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সেবক আমরা: তথ্যমন্ত্রী

রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সেবক আমরা: তথ্যমন্ত্রী