চট্টগ্রামে দর্শকদের ক্রিকেট উন্মাদনা শেষ পর্যন্ত ভেসে গেছে বৃষ্টির পানিতে। চার-ছক্কা আর উইকেট পড়ার উত্তেজনা দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হলেও এক বলও মাঠে গড়ায়নি। টানা বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
ম্যাচটি বেলা ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বেড়ে যায়, ফলে মাঠ খেলার উপযোগী রাখা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টস করতেও পারেননি দুই দলের অধিনায়ক।
দর্শকরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও খেলা শুরু না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। অনেকে ভিজে ভিজে স্টেডিয়ামে অপেক্ষা করেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে ফিরে যান। তবে খেলা না হলেও তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে—টিকিটের টাকা ফেরত দেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় দর্শকদের টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দেওয়া হবে। এতে দর্শকদের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা থাকছে না, যদিও মাঠে খেলা না দেখার আফসোস থেকেই যাচ্ছে।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ছিল এটি। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাতিল হওয়ায় সিরিজের ফলাফল নিয়ে এখন আর কোনো জটিলতা নেই। প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটের জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
এই ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজ হারার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকল। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও সিরিজ ড্র হবে। তবে দল এখন চাইবে শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিতে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাতিল হওয়া দর্শক ও আয়োজক উভয়ের জন্যই হতাশাজনক। বিশেষ করে যারা টিকিট কেটে খেলা দেখতে এসেছিলেন, তাদের জন্য এটি ছিল বড় ধাক্কা। তবে বিসিবির টিকিট ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে দর্শকদের।
চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে এ ধরনের আবহাওয়াজনিত সমস্যা নতুন নয়। বর্ষা ও প্রাক-বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই বৃষ্টি ম্যাচে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার বিষয়টি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের এই টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি মাঠে না গড়ালেও আলোচনায় রয়ে গেছে দর্শকদের হতাশা, বৃষ্টির প্রভাব এবং বিসিবির টিকিট ফেরত সিদ্ধান্ত নিয়ে।
কসমিক ডেস্ক