রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গুলিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মো. আনোয়ার হোসেন, র্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া)। তিনি জানান, অভিযানে মোট ৬৮ রাউন্ড গুলি এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. আলমগীর হোসেন (৫০), মো. সজিব (২৭), আশা আক্তার ঝর্ণা (২০), মো. অপু বেপারী (২৪) ও মো. খোকন (৫৬)। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় নিয়মিত ডিউটির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় তারা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ দল আগ্নেয়াস্ত্রসহ শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পারগেন্ডারিয়া এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে।
সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চারজন পুরুষ ও একজন নারীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকেই বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এই গুলিগুলো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কর্মকাণ্ড ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
র্যাব জানিয়েছে, অভিযানের পর গ্রেপ্তারদের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, কেরানীগঞ্জ এলাকায় এ ধরনের অভিযান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে র্যাবের এই অভিযান অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়।
কসমিক ডেস্ক