টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় এক নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতা ও তার ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রধান অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরে নাগরপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চৌহালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মান্না সিকদার এবং তার ছোট ভাই শান্ত। মান্না সিকদার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর সলিমাবাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদারের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগে তার ছোট ভাই শান্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মান্না সিকদার দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। একপর্যায়ে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে একই কৌশলে একাধিকবার একই ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া এ ঘটনায় স্থানীয় এক নারী, মোছা. বুড়ির বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে। তিনি অভিযুক্তকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে অভিযুক্ত মান্না সিকদার তাকে অস্বীকার করেন। এমনকি তাকে চিনেন না বলেও দাবি করেন এবং বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে আইনের আশ্রয় নেয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর খালাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মান্না সিকদার এবং সহযোগী হিসেবে তার ভাই শান্ত ও প্রতিবেশী ওই নারীকে আসামি করা হয়।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তবে এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
কসমিক ডেস্ক