যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর একটি ব্যতিক্রমধর্মী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সীমিত সংস্করণের একটি বিশেষ পাসপোর্ট বাজারে আনা হবে, যার ভেতরের প্রচ্ছদে বড় আকারে স্থান দেওয়া হয়েছে Donald Trump-এর ছবি।
এই উদ্যোগটি চলতি গ্রীষ্ম থেকেই কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই বিশেষ পাসপোর্টে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘কাস্টমাইজড আর্টওয়ার্ক’ এবং উন্নত মানের ইমেজিং যুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্টের ভেতরের কভারে থাকবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বড় প্রতিকৃতি, যার চারপাশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশবিশেষ, জাতীয় পতাকার নকশা এবং সোনালি রঙে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সংযোজন করা হবে।
এই বিশেষ পাসপোর্টটি মূলত ‘আমেরিকা২৫০’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল মলে ‘গ্র্যান্ড প্রিক্স’ রেস এবং হোয়াইট হাউজের লনে ‘ইউএফসি’ লড়াইয়ের মতো ব্যতিক্রমধর্মী ইভেন্ট।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনাও কম নয়। অনেক সমালোচকের মতে, একটি রাষ্ট্রীয় নথিতে কোনো রাজনৈতিক নেতার ছবি অন্তর্ভুক্ত করা ব্যক্তিপূজার একটি নতুন উদাহরণ হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে এমন উদ্যোগ নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন তারা।
এর আগেও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও নথিতে ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের ঘটনা সামনে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে, ওয়াশিংটনের বিচার বিভাগ ভবনসহ কয়েকটি দপ্তরে তার বড় প্রতিকৃতি টানানো হয়েছে। এছাড়া কৃষি বিভাগে Abraham Lincoln-এর ছবির পাশে ট্রাম্পের ছবি সংযোজনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
২০২৬ সালের ন্যাশনাল পার্ক পাসেও George Washington-এর সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। অনেক দর্শনার্থী স্টিকার দিয়ে ট্রাম্পের মুখ ঢেকে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনাও ঘটেছে।
এই ঘটনার পর পার্ক সার্ভিস কর্তৃপক্ষ পাস বিকৃত করার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন নতুনত্বের দাবি করছে, অন্যদিকে এটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিশেষ পাসপোর্ট সাধারণ মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।