ঝড়-তুফানের সময় পঠিতব্য দোয়া The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঝড়-তুফানের সময় পঠিতব্য দোয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 29, 2026 ইং
ঝড়-তুফানের সময় পঠিতব্য দোয়া ছবির ক্যাপশন:

ঝড়-তুফান প্রকৃতির এক শক্তিশালী ও ভয়ংকর নিদর্শন, যা মানুষকে তার সীমাবদ্ধতা ও অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আকাশে কালো মেঘের গর্জন, বিদ্যুতের ঝলকানি এবং তীব্র বাতাসের তাণ্ডব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক একমাত্র মহান আল্লাহ। এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের উচিত আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং তাঁর কাছেই নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা।

ইসলামে ঝড়-তুফানকে কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর একটি নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া, জিকির এবং ইস্তেগফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ঝড়-তুফানের সময় একটি নির্দিষ্ট দোয়া পড়তেন, যা হাদিসে বর্ণিত রয়েছে।

উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) যখন প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বা তীব্র বাতাস দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়াটি পড়তেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهَا، وَخَيْرِ مَا فِيهَا، وَخَيْرِ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

উচ্চারণ:
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরিহা, ওয়া খাইরি মা ফিহা, ওয়া খাইরি মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজু বিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা, ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।”

অর্থ:
হে আল্লাহ, এই বাতাসের কল্যাণ, এর ভেতরের কল্যাণ এবং যার জন্য এটি প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ আমি আপনার কাছে চাই। আর এর অকল্যাণ, এর ভেতরের অকল্যাণ এবং যার জন্য এটি প্রেরিত হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।
(তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৪৯)

এই দোয়াটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছেই চাওয়া উচিত। ঝড়-তুফান যেমন ক্ষতির কারণ হতে পারে, তেমনি এটি বৃষ্টি, শীতলতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মতো উপকারও নিয়ে আসে। তাই একজন মুমিন আল্লাহর কাছে এর কল্যাণ কামনা করেন এবং ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করেন।

ঝড়ের সময় ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি সুযোগ—নিজেকে আল্লাহর কাছে আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার। এই সময় বেশি বেশি দোয়া করা, কুরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর স্মরণে থাকা একজন মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।

এছাড়া বাস্তব দিক থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি। নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। ইসলাম কখনোই শুধু আধ্যাত্মিক দিক নয়, বরং বাস্তব জীবনের নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেয়।

সব মিলিয়ে, ঝড়-তুফানের সময় এই দোয়াটি শুধু একটি প্রার্থনা নয়, বরং আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরতা ও আত্মসমর্পণের একটি সুন্দর প্রকাশ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যে কোনো বিপদে আল্লাহই আমাদের একমাত্র আশ্রয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধাঞ্জলি

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধাঞ্জলি