চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে চলমান আইনি জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের আপিল শুনানি নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় মামলার নিষ্পত্তি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় শুনানি সম্ভব হয়নি। ফলে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা গেলেও কার্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন আদালতের মাধ্যমে নতুন একটি শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সেই তারিখের ওপর নির্ভর করছে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে একই সঙ্গে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। ফলে তিনি নির্বাচনে জয়ী হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না।
এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতেই আদালত বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
এর আগে, গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এই রায়ের ফলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান এবং পরে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তবে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় তার এই জয় এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে অংশ নিয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হন। প্রায় ৭৬ হাজারের বেশি ভোটে বিজয় অর্জন করলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তিনি এখনো শপথ নিতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটারদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে আছেন, যা এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করবে।
নির্বাচন কমিশনও আদালতের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ফলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই আসনের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জটিলতা অব্যাহত থাকবে।
সার্বিকভাবে, আপিল শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার কারণে একটি নির্বাচনী ফলাফল কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকতে পারে, তারই একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ঘটনা। এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে সরোয়ার আলমগীরের সংসদে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে কি না।