নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ এলাকায় ঈদুল আজহা সামনে রেখে বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দীর্ঘ সময় ধরে অচল হয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলার চৈতী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এলাকায়, যা পরে আশপাশের পুরো মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের পর চৈতী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ শ্রমিক একযোগে মহাসড়কে নেমে আসেন। তারা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অবরোধ করে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেঘনা টোল প্লাজা থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এই অবরোধের কারণে দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং জরুরি সেবা অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে। ঈদের আগ মুহূর্তে ঘরমুখো হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, সরকার ঈদের আগে শ্রমিকদের ২০ দিনের বেতন ও বোনাস পরিশোধের নির্দেশ দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। তাদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ২৫ হাজার টাকা পাওনার বিপরীতে তাদের মাত্র ৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ঈদের পর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, যা শ্রমিকরা মেনে নিতে রাজি নন।
এক নারী শ্রমিক বলেন, ঈদের আগে পরিবারের জন্য বাজার করা এবং সন্তানদের নতুন পোশাক কেনার মতো পরিস্থিতি নেই। বকেয়া টাকা না পেলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
অবরোধ চলাকালে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সোনারগাঁ থানা পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায় এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেয়। তবে শ্রমিকরা বেতন ও বোনাস পরিশোধের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। পুলিশ জানায়, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
চৈতী গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার ফলে ঈদযাত্রার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকেন, যার ফলে ঈদের আগ মুহূর্তে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা অনিশ্চিত ও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক