গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এমসি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন—জাহিদ হাসান (১৬), মো. আবির (১৬), মো. সজীব হাসান (১৬), মো. আল আহাদ রহমান অন্তর (১৬) এবং আমিনুল ইসলাম পাপ্পু (১৬)। তারা সবাই শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের এমসি বাজার এলাকার হাজ্বী ছোট কলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
জানা গেছে, তাদের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল আলহাজ্ব ধনাই বেপারি উচ্চ বিদ্যালয়। মঙ্গলবার সকালে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এমসি বাজার এলাকার ময়লার ভাগাড়ের কাছে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি ডাম্প ট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার ফলে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে। এতে অটোরিকশার ভেতরে থাকা পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হয়। একই সঙ্গে অটোরিকশার চালকও আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। তাদের প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আহতদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, আহতদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরও দুই শিক্ষার্থী সাহসিকতার সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়। আহত দুই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ডাম্প ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ দিনে, যেমন পরীক্ষার সময়, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে আরও কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় দুঃখ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন সবাই।
কসমিক ডেস্ক