দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা-সহ মোট ১৩টি জেলার ওপর দিয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কিছু এলাকায় ঝড়ের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ তীব্র।
বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ীভাবে তীব্র দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করতে বলা হয়েছে।
কালবৈশাখী ঝড় সাধারণত গ্রীষ্মকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ করেই আঘাত হানে। এতে স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার সৃষ্টি হয়, যা জনজীবনে নানা ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় অবস্থানকারী মানুষ, কৃষক এবং নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ঝড়ের সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীবন্দর ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কালবৈশাখীর তীব্রতা ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ফলে পূর্বাভাস মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, আজকের এই আবহাওয়া পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা মেনে চলাই হতে পারে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
কসমিক ডেস্ক