ইরানি তেল আমদানির অভিযোগ অস্বীকার করল চীনের হেংলি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরানি তেল আমদানির অভিযোগ অস্বীকার করল চীনের হেংলি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 26, 2026 ইং
ইরানি তেল আমদানির অভিযোগ অস্বীকার করল চীনের হেংলি ছবির ক্যাপশন:

চীনের অন্যতম বড় বেসরকারি তেল শোধনকারী প্রতিষ্ঠান হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পর এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরান থেকে তেল কেনার অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে কোম্পানিটি এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

এক বিবৃতিতে হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল স্পষ্টভাবে জানায়, তারা কখনোই ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত হয়নি। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সব তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছে যে সরবরাহকৃত অপরিশোধিত তেলের উৎস যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকার বাইরে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চীন একটি বড় ক্রেতা দেশ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বেসরকারি রিফাইনারিগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে। এ কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব প্রায়ই এই খাতে পড়ে। হেংলির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সেই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলার জন্য তারা আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। বর্তমানে তাদের কাছে তিন মাসের বেশি সময়ের জন্য অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে উৎপাদন, পরিশোধন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে তারা আশ্বস্ত করেছে।

হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে তারা আইনি ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছে। কোম্পানির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তব প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

তারা আরও জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোম্পানির লক্ষ্য হচ্ছে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে চীনা কোম্পানিগুলোর ভূমিকা প্রায়ই আলোচনায় আসে, কারণ চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ ও নিষেধাজ্ঞা শুধু সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর নয়, বরং বৈশ্বিক তেল বাজারের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে হেংলির মতো বড় রিফাইনারিগুলোর অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের এই অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, তারা ইরানের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যিক সম্পর্ক অস্বীকার করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। বিষয়টি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের সন্তানরা পাবেন স্নাতক পর্যন্ত পড়ার

অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের সন্তানরা পাবেন স্নাতক পর্যন্ত পড়ার