তারুণ্য ধরে রাখতে রাতে কতক্ষণ ঘুমাবেন জানেন? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তারুণ্য ধরে রাখতে রাতে কতক্ষণ ঘুমাবেন জানেন?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 24, 2026 ইং
তারুণ্য ধরে রাখতে রাতে কতক্ষণ ঘুমাবেন জানেন? ছবির ক্যাপশন:

আমরা সাধারণত বয়স হিসাব করি ক্যালেন্ডারের বছর দিয়ে, যাকে বলা হয় ক্রোনোলজিক্যাল বয়স। কিন্তু শরীরের প্রকৃত অবস্থা নির্ভর করে জৈবিক বয়সের ওপর—অর্থাৎ আমাদের কোষ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কত দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। আর এই জৈবিক বয়স নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আমাদের দৈনন্দিন ঘুমের অভ্যাস।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঘুমের সময়কাল সরাসরি শরীরের বার্ধক্যের গতিকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে, নিয়মিত সঠিক পরিমাণ ঘুম শরীরকে দীর্ঘদিন তরুণ ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন রাতে প্রায় ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুমান, তাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তুলনামূলক ধীরগতিতে বুড়িয়ে যায়। অর্থাৎ, এই সময়সীমার মধ্যে ঘুমানো ব্যক্তিদের জৈবিক বয়স কম হারে বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে, যারা খুব কম (৬ ঘণ্টার কম) বা খুব বেশি (৮ ঘণ্টার বেশি) ঘুমান, তাদের শরীরে বার্ধক্যের প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে। এটি শুধু ত্বক নয়, মস্তিষ্কসহ শরীরের প্রায় সব অঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষকদের মতে, কম ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং প্রদাহ বাড়ায়। ফলে শরীরের টিস্যু মেরামত বাধাগ্রস্ত হয়।

কম ঘুমের কারণে যেসব সমস্যা হতে পারে:

  • উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি
  • ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সম্ভাবনা
  • মানসিক সমস্যা যেমন বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

অনেকে মনে করেন বেশি ঘুম মানেই ভালো স্বাস্থ্য, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। অতিরিক্ত ঘুম অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে বিষণ্ণতা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স অনুযায়ী ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে:

  • ১৮–৬০ বছর: অন্তত ৭ ঘণ্টা
  • ৬১–৬৪ বছর: ৭–৯ ঘণ্টা
  • ৬৫ বছরের বেশি: ৭–৮ ঘণ্টা

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুমের মান (quality)। শুধু বেশি সময় ঘুমালেই হবে না, ঘুম হতে হবে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন।

তারুণ্য ও সুস্থতা ধরে রাখতে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি:

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠা
  • ঘুমানোর আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা
  • হালকা ও সহজপাচ্য রাতের খাবার খাওয়া
  • ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখা
  • অন্তত ৭ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করার চেষ্টা করা

পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ের ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না, বরং জৈবিক বয়স কম রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তারুণ্য ধরে রাখতে চাইলে আজ থেকেই ঘুমের অভ্যাসে সচেতন হওয়া জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
এক অভিযোগে কেউ গুম এক মাস, কেউ সাত বছর—উদ্দেশ্য ছিল দমন

এক অভিযোগে কেউ গুম এক মাস, কেউ সাত বছর—উদ্দেশ্য ছিল দমন