ভুলে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন কখন? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভুলে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন কখন? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 25, 2026 ইং
ভুলে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন কখন? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছবির ক্যাপশন:

ব্যস্ত জীবনে হঠাৎ চাবি কোথায় রেখেছেন তা ভুলে যাওয়া, পরিচিত কারও নাম মনে করতে কিছুটা সময় লাগা কিংবা একটি ঘরে গিয়ে কেন এসেছেন তা মুহূর্তের জন্য ভুলে যাওয়া—এ ধরনের ঘটনা প্রায় সবার জীবনেই ঘটে। অনেকেই এসব কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে ভাবেন, এটি কি বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন, নাকি ডিমেনশিয়া বা অন্য কোনো গুরুতর মস্তিষ্কজনিত রোগের পূর্বাভাস?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের ভুলে যাওয়া রোগের লক্ষণ নয়। তবে স্মৃতিভ্রম যদি ঘন ঘন হতে থাকে এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যাহত করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

স্বাভাবিক ভুলে যাওয়া বলতে কী বোঝায়?

নিউরোলজিস্টদের মতে, স্বাভাবিক ভুলে যাওয়া হলো এমন সাময়িক স্মৃতিভ্রম, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, কাজ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে না।

এর মধ্যে থাকতে পারে—

  • কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পরিচিত ব্যক্তির নাম সাময়িকভাবে ভুলে যাওয়া, পরে মনে পড়ে যাওয়া।
  • চশমা, মোবাইল বা চাবি কোথাও রেখে কিছু সময় খুঁজতে হওয়া।
  • পরিচিত কোনো শব্দ বা নাম মনে করতে কয়েক সেকেন্ড বেশি সময় লাগা।
  • কোনো কাজে ব্যস্ত থাকায় একটি কাজের উদ্দেশ্য মুহূর্তের জন্য ভুলে যাওয়া।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি কিছুটা কমে যায়। তাই এ ধরনের ছোটখাটো স্মৃতিভ্রম অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ এবং এটি সবসময় ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের ইঙ্গিত নয়।

কেন ভুলে যাই?

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার পেছনে শুধু বয়স নয়, আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

মানসিক চাপ: দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে মস্তিষ্কের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রভাব ফেলতে পারে।

অপর্যাপ্ত ঘুম: গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারাদিনের তথ্য সংরক্ষণ ও সাজিয়ে রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে নতুন তথ্য মনে রাখতে সমস্যা হতে পারে।

ভিটামিনের ঘাটতি: বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২ এবং ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি স্নায়ুতন্ত্র ও স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, ঘুমের ওষুধ বা বিষণ্নতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ওষুধের কারণে সাময়িক স্মৃতিভ্রম দেখা দিতে পারে।

হরমোনের পরিবর্তন: বিশেষ করে মেনোপজের সময় অনেক নারীর মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে সাময়িক পরিবর্তন দেখা যায়।

কখন এটি উদ্বেগের কারণ?

যখন ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষমতা বা নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষভাবে সতর্ক হওয়ার মতো লক্ষণগুলো হলো—

  • একই প্রশ্ন বারবার করা এবং সদ্য পাওয়া তথ্য দ্রুত ভুলে যাওয়া।
  • পরিচিত রাস্তায় পথ হারিয়ে ফেলা।
  • নিয়মিত ওষুধ খেতে ভুলে যাওয়া বা অর্থনৈতিক হিসাব রাখতে সমস্যা হওয়া।
  • কথোপকথনের সময় প্রয়োজনীয় শব্দ মনে করতে না পারা।
  • সময়, তারিখ বা স্থান সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে পড়া।
  • আচরণ, ব্যক্তিত্ব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায় হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দেওয়া।

এসব উপসর্গ ডিমেনশিয়া, আলঝেইমার, স্ট্রোক বা অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই দ্রুত নিউরোলজিস্ট বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার উপায়

বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন: শারীরিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন: শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: প্রতিদিন নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখুন: বই পড়া, দাবা, পাজল, শব্দজট বা নতুন কিছু শেখার অভ্যাস মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার করুন: এগুলো দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
  • সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকুন: পরিবার, বন্ধু ও সমাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।

শেষ কথা

মাঝে মাঝে কিছু ভুলে যাওয়া জীবনের স্বাভাবিক অংশ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি উদ্বেগের কারণ নয়। তবে স্মৃতিভ্রম যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে, দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে বা আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেক স্নায়বিক রোগের অগ্রগতি ধীর করা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতন জীবনযাপন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মালয়েশিয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন

মালয়েশিয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন