উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী–তে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একটি পুকুরে ধরা পড়েছে বিশাল আকৃতির দুটি কোরাল মাছ। মাছ দুটির মোট ওজন প্রায় ২৭ কেজি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
শনিবার সকালে মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা গ্রামের একটি পুকুরে জাল টানার সময় এই মাছ দুটি ধরা পড়ে। পুকুরটির মালিক জাকির খান জানান, এত বড় কোরাল মাছ পুকুরে পাওয়া যাবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।
ধরা পড়া দুটি মাছের মধ্যে একটি মাছের ওজন ১৫ কেজি এবং অন্যটির ওজন ১২ কেজি। বিশাল আকারের এই মাছ দেখতে আশপাশের মানুষজন ভিড় জমায়।
পরে মাছ দুটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটার স্থানীয় বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিলামের মাধ্যমে মোট ২৪ হাজার টাকায় মাছ দুটি বিক্রি করা হয়। হিসাব অনুযায়ী প্রতি কেজি মাছের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৮৮৮ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত কোরাল মাছ সমুদ্রে পাওয়া যায়। পুকুরে এমন বড় আকারের কোরাল ধরা পড়া খুবই বিরল ঘটনা। ফলে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মাছটির ক্রেতা জানিয়েছেন, বড় সাইজের কোরাল মাছের বাজারমূল্য অনেক বেশি, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এর চাহিদা বেশি থাকে। তাই মাছ দুটি দ্রুত বরফজাত করে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কোরাল মাছ মূলত সামুদ্রিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। তবে উপকূলীয় এলাকার পুকুরে জোয়ারের পানির সঙ্গে বা পোনা হিসেবে অনেক সময় এসব মাছ প্রবেশ করে।
তিনি আরও জানান, উপযুক্ত পরিবেশ, পর্যাপ্ত খাবার এবং সঠিক পরিচর্যা পেলে পুকুরেও কোরাল মাছ দ্রুত বড় হয়ে উঠতে পারে। এটি উপকূলীয় মৎস্য চাষের জন্য একটি ইতিবাচক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উপকূলীয় অঞ্চলের পুকুরগুলোতেও সামুদ্রিক মাছ চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
সব মিলিয়ে, পুকুরে এত বড় কোরাল মাছ ধরা পড়ার ঘটনা শুধু কৌতূহলই সৃষ্টি করেনি, বরং উপকূলীয় মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দিকও তুলে ধরেছে।
কসমিক ডেস্ক