দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা একটি বড় অঙ্কের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক এই উপমন্ত্রী অসৎ ও অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রায় ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯ হাজার ৯২৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন।
এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে, তার নিয়ন্ত্রণাধীন ১৯টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৪১৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন পরিচালিত হয়েছে। দুদকের দাবি অনুযায়ী, এসব অর্থের উৎস বৈধ নয় এবং এগুলো বিভিন্নভাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করেন প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক এস. এম রাশেদুর রেজা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ ঢাকা ও ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থানে এই আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের ঘটনা ঘটেছে।
মামলায় আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার তার মক্কেলের জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত জামিনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে আগামী ১৬ জুন জামিন শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতে আসামির পক্ষে জামিন চাওয়া হলেও বিচারক বিষয়টি পরবর্তী তারিখে শুনানির জন্য রেখে দেন। এর ফলে মামলার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত অবস্থায় রয়েছে এবং আগামী শুনানিতে জামিন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এর আগে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। বর্তমান মামলাটির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
দুদকের এই মামলাটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ এতে বড় অঙ্কের সম্পদ ও লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সংস্থার মতে, এসব আর্থিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত হয়েছে এবং এর পেছনে জটিল আর্থিক নেটওয়ার্ক থাকতে পারে।
এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের, যেখানে জামিনসহ মামলার ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারিত হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক