রমজানের আগে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির, সবজি-ডিমে স্বস্তি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির, সবজি-ডিমে স্বস্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 6, 2026 ইং
রমজানের আগে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির, সবজি-ডিমে স্বস্তি ছবির ক্যাপশন:

পবিত্র মাহে রমজান সামনে রেখে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট মিলমালিকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারের বাড়তি দামের প্রভাব এখনও দেশে এসে পৌঁছায়নি। তাদের মতে, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে সামনে রেখে কৌশলে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

খুচরা ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোম্পানিগুলো ভোজ্যতেলে কমিশন কমিয়ে দিয়ে কৌশলে দাম বাড়িয়েছে। ফলে খুচরা বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোম্পানির কমিশন কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। তবে ডাল-চিনিসহ রমজানে বেশি চাহিদাসম্পন্ন বেশ কিছু পণ্যের দাম এখনও স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় কাঁচাবাজারে সব ধরনের সবজির দাম কমতির দিকে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়লেও ডিমের দাম ডজনে পাঁচ টাকা কমেছে। তাদের মতে, রমজান সামনে রেখে এবার নিত্যপণ্যের সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।

টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহার তছলিম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের বুকিং রেট টনপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। তবে এর প্রভাব এখনও দেশের বাজারে পড়েনি এবং রমজানেও বাজারে এই বাড়তি দামের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশে বার্ষিক ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলে শুধু পাম তেল আমদানি হয়েছে ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮৩ টন। এর বাইরে সয়াবিনের বীজ আমদানি করে স্থানীয় রিফাইনারিগুলো সয়াবিন তেল উৎপাদন করে থাকে।

সাধারণত রমজান মাসে প্রায় তিন লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশে আমদানি হয়েছে এর চেয়েও অনেক বেশি। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে প্রায় পৌনে চার লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে তিনটি ট্যাংকার বোঝাই প্রায় এক লাখ টন সয়াবিন তেল।

তবুও বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের বাজার মনিটরিং দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে সয়াবিন, পাম ও সুপার পামের দাম মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের বোতল কোম্পানি ভেদে ৯৩০ থেকে ৯৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও ২৫ টাকা কম ছিল। বৃহস্পতিবার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৭ হাজার ৪০ টাকা এবং পামতেল বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৯৪০ টাকা দরে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, তারা প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৯২ টাকায় কিনে ১৯৬ টাকায় বিক্রি করছেন। একইভাবে প্রতি লিটার পাম তেল ১৬৬ টাকায় কিনে ১৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভোক্তারা বলছেন, সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও ভোজ্যতেলের দাম বাড়া উদ্বেগজনক।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগে নেমেছেন বিএনপি প্রার্থী অপু

পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগে নেমেছেন বিএনপি প্রার্থী অপু