শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বৈঠক শেষে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দুর্লভ মৃত্তিকায় সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি যুগান্তকারী সমঝোতায় পৌঁছেছে। মোদি বলেন, এই চুক্তি সাপ্লাই চেইনকে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ এবং দেশীয় উৎপাদন ও নতুন সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খনিজ মজুদ থাকা ব্রাজিল ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ইলেকট্রিক যান, সোলার প্যানেল, স্মার্টফোন, জেট ইঞ্জিন এবং গাইডেড মিসাইল—সবকিছুর উৎপাদনে এই খনিজ ব্যবহৃত হয়। মোদি বলেন, চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত দেশীয় উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং ব্রাজিলসহ নতুন সরবরাহকারীর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে।
লুলা বৈঠকে বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোই এই যুগান্তকারী চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। যদিও চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই দিনে ডিজিটাল সহযোগিতা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও নয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, ল্যাটিন আমেরিকায় ব্রাজিল ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। আগামী পাঁচ বছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ২০২৫ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
ভারত থেকে ব্রাজিলে প্রধানত রপ্তানি করা হয় চিনি, অপরিশোধিত তেল, উদ্ভিজ্জ তেল, তুলা এবং লৌহ আকরিক। চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বাড়ানো হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক খনিজ বাজারে ভারতের স্থিতিশীলতা এবং ভূ-রণনীতিকভাবে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে।
এছাড়া, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ইলেকট্রিক যান খাতে এই খনিজ চুক্তি ভারতকে গ্লোবাল ইকো-টেক চেইনে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে উন্নীত করতে পারে। লুলা এবং মোদির এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ব্রাজিল-ভারত খনিজ সমঝোতা ভবিষ্যতে দু’দেশের শিল্প ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। এটি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভারতের বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে অগ্রগতি নিশ্চিত করবে।
কসমিক ডেস্ক