জ্বালানি সংকটে নৌ-পরিবহন থমকে যমুনা চর, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জ্বালানি সংকটে নৌ-পরিবহন থমকে যমুনা চর, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 5, 2026 ইং
জ্বালানি সংকটে নৌ-পরিবহন থমকে যমুনা চর, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা ছবির ক্যাপশন:

সিরাজগঞ্জের যমুনা চরবাসী ও মৎস্যজীবীরা জ্বালানি তেলের অভাবে দৈনন্দিন জীবনে চরম সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। জেলার যমুনা নদী সংলগ্ন কাজীপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার প্রায় ২৬টি ইউনিয়নে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছেন। দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তার কারণে এই মানুষদের শহরে যাতায়াত করতে হয়। তবে তেলের ঘাটতির কারণে নৌকার মাঝিরা কম যাত্রী নিয়ে যাতায়ত করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন এবং নৌকার মাঝিরাও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

শনিবার দুপুরে শহরের বিএল স্কুল নৌকা ঘাটে দেখা যায়, রুপসা চর থেকে মাত্র ৬ জন যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জ ঘাটে একটি নৌকা এসেছে। নৌকার যাত্রী মেছড়া ইউনিয়নের হাড়িবাঙ্গা গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, জমিতে সেচের জন্য ডিজেল প্রয়োজন হলেও যাত্রী না থাকায় বাধ্য হয়ে ১ হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া দিতে হয়েছে, যেখানে পূর্বে প্রতি যাত্রীর জন্য ভাড়া ছিল মাত্র ৫০ টাকা।

নৌকার মাঝি জহুরুল ইসলাম বলেন, “ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পর থেকেই জ্বালানি তেল চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। পাম্পে গেলে তেল নেই, বাইরে থেকে কিনলে দাম অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে নৌকা চালানো কঠিন হয়ে গেছে।” নালিতা চরে যাতায়াতকারী নৌকার মাঝি জুয়েল জানান, “এই রুটে যেতে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়, অথচ যাত্রী মাত্র ১৬ জন। এত খরচ দিয়ে নৌকা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”

নৌকার যাত্রী সাবিহা ও আবু সাইদ জানান, আগে নৌকার ভাড়া ছিল ১০০ টাকা, বর্তমানে বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। এর ফলে চরে উৎপাদিত ফসল ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ দিতে হচ্ছে।

মৎস্যজীবী চররায়পুর গ্রামের খোকন চৌধুরী বলেন, “আমরা যমুনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। পাম্প থেকে তেল পাওয়া যায় না, বাইরে থেকে কিনলে দাম বেশি। এই অবস্থায় অনেকেই মাছ ধরা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন। আমি নিজে শহরে পুরানো কাপড় বিক্রি করছি।”

জ্বালানি সংকটের কারণে যমুনা নদীর চরবাসী ও মৎস্যজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে হুমকির মুখে পড়েছেন। নৌকা পরিবহন থমকে যাওয়ায় শুধু যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যাহত হচ্ছে না, বরং ফসল ও মাছ পরিবহনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নৌ-পরিবহনের এই স্থবিরতা স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যমুনা নদীর চর এলাকায় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে, নৌকার কার্যক্রম ও মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রায় সংকট আরও তীব্র হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স