সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘ফুটবল’ প্রতীকের Dr Shahidul Alam-এর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছে অপর পরাজিত প্রার্থী ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের Kazi Alauddin-এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শহিদুল আলমের পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন। এর আগে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর বাঁশতলা বাজার সংলগ্ন মোজা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মীর শাহিনর, আজম হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আকুল মীর, লুটন মীর ও শিমুল মীরসহ আরও কয়েকজন। স্থানীয়ভাবে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডা. শহিদুল আলমের ‘ফুটবল’ প্রতীকের কয়েকজন কর্মী মোজা মোড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের একদল লোক অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ফতেপুর বাঁশতলা এলাকার নুরুজ্জামান পাড়ের নেতৃত্বে আমিরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, ইদ্রিস আলী সরদার, ফিরোজ ঢালী, মোস্তাফিজুর পাড়, শাহিনুর কারিকর ও আলতাফ হোসেন হামলায় অংশ নেন। হামলার সময় আকস্মিকভাবে আক্রমণ করা হয় বলে তারা উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুতর আহত কেউ আছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. জুয়েল হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতার অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।