ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার হুমকি সম্পর্কে দেওয়া একটি গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সিআইএ ‘কম আস্থা’ প্রকাশ করেছিল বলে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই তথ্য পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেনি। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল না আসায় ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই সময়ে টানাপোড়েনের খবর সামনে এসেছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
চ্যাথাম হাউসের মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইয়োসি মেকেলবার্গের মতে, যুদ্ধের সময় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাধিক ব্যর্থতা দেখা গেছে। তাঁর ধারণা, ইরানসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সিআইএ নিজেদের প্রভাব কমে যাওয়ার বিষয়টি উপলব্ধি করে আবার প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টানাপোড়েন থাকলেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। দুই নেতার নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ভবিষ্যতে সম্পর্কের ওপর আরো প্রভাব ফেলতে পারে।
৭ অক্টোবরের হামলার আগাম তথ্য দিতে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ব্যর্থতার পর থেকেই তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নতুন করে সিআইএর আস্থার ঘাটতির খবর প্রকাশ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল গোয়েন্দা সহযোগিতা ও দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনাও জোরালো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক