প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে ভারতের ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চ’-এর ব্যানারে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে টানা ১৬ দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো সাত দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) অধীনে অনুষ্ঠিত ১৪তম সম্মিলিত সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীরা বিতর্কিত ওই পরীক্ষা বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে আরেকটি কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষাটিকে ছাড় দেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। ২০১৯ সালের পর অনুষ্ঠিত সব বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিলের দাবিও তুলেছেন তারা।
সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইতিমধ্যে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পাঁচ দফা বৈঠক করেছে এবং রোববার ষষ্ঠ দফা আলোচনার কথা রয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং।
তবে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ থাকা পরীক্ষাগুলো বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আন্দোলন এখনো থামেনি। দাবি পূরণ না হলে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ তদন্তে সিবিআই ও ইডিকে যুক্ত করার পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারকদের নিয়ে স্বাধীন তদারকি প্যানেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি ক্যাটাগরির কাট-অফ মার্কস, ওএমআর ও রেসপন্স শিট প্রকাশ এবং পরীক্ষার স্বচ্ছ বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রকাশের দাবিও রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক