বর্ষাকাল এলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। এটি এডিস (Aedes aegypti ও Aedes albopictus) মশার কামড়ে ছড়ানো একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর সেই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে।
ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ তীব্র জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে তীব্র ব্যথা, বমিভাব, বমি এবং ত্বকে লালচে র্যাশ। অনেক ক্ষেত্রে প্লেটলেট কমে যেতে পারে এবং নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, কালো পায়খানা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ, জ্বর নিয়ন্ত্রণ এবং জটিলতা প্রতিরোধ করা। জ্বর কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যায়। তবে আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। রোগীকে পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল পানীয় পান করানো প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, টায়ার, এসির ট্রে কিংবা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি ফুলহাতা পোশাক পরা, মশারি ব্যবহার, মশা নিরোধক স্প্রে বা ক্রিম ব্যবহার এবং ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা উচিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো রোগ শনাক্ত, সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলেই ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
কসমিক ডেস্ক