দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বন্ধ থাকার পর কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যটনের প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নেওয়া মহাপরিকল্পনার আওতায় কুমিল্লাসহ দেশের আটটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিমানবন্দরটি ১৯৬৬ সালে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত বিমান চলাচল করলেও যাত্রীসংকটের কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৪ সালে স্বল্প সময়ের জন্য পুনরায় চালু হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে যাত্রীবাহী বিমান না চললেও বিমানবন্দরের নেভিগেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে বিমানবন্দরের ডিভিওআর (DVOR) ও ডিএমই (DME) নেভিগেশন সিগন্যাল ব্যবহার করে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল করছে। এর মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রানওয়ের কার্পেটিং, ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে ভিএইচএফ (VHF) যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান পরিচালনায় বড় কোনো বাধা থাকবে না। বর্তমানে নেভিগেশন যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের কাজও চলমান রয়েছে।
কুমিল্লা ইপিজেড, জেলার শিল্পায়ন, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এবং রপ্তানিমুখী ব্যবসার কারণে বিমানবন্দরটি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যাত্রীসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ওপর চাপও কমবে এবং কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
তবে বিমানবন্দরের চারপাশে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং রানওয়ের কিছু অংশের অবনতি ভবিষ্যৎ পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
কসমিক ডেস্ক