২০২৬ বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এবং বিতর্কের প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই একটি জরুরি অধ্যাদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে আর্জেন্টিনা বা আর্জেন্টাইনদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিলে বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো বিদেশি ব্যক্তি মৌখিক, লিখিত বা অন্য কোনো মাধ্যমে আর্জেন্টিনা কিংবা আর্জেন্টাইন জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, বৈষম্য বা সহিংসতায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিলে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, ভিসা বাতিল করা কিংবা বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্টের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা ও দেশটির নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতীয় স্বার্থ, নাগরিক এবং রাষ্ট্রীয় পরিচয় রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যে কেউ আর্জেন্টাইন প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অবস্থান নেবে, তাকে আমাদের দেশে স্বাগত জানানো হবে না।’
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, একাডেমিক গবেষণা বা সংবিধানসম্মত সমালোচনার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবুও অধ্যাদেশটি প্রকাশের পর এর আইনি ভিত্তি, প্রয়োগের পদ্ধতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দেশটিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, কোন বক্তব্যকে ‘বিদ্বেষমূলক’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই সিদ্ধান্তের মানদণ্ড কী—এ বিষয়ে অধ্যাদেশে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
বিশ্বকাপ চলাকালে বিতর্কিত রেফারিং, লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ এবং ফাইনালের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মন্তব্যকে সরকার ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দাবি করেছেন, এই প্রচারণার পেছনে বিদেশি রাজনৈতিক শক্তির অর্থায়ন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রাজিল সরকার, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কিছু গোষ্ঠী এই প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
কসমিক ডেস্ক