পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কোয়েটার কাছে দুর্গম সোরাঙ্গে এলাকার একটি খনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণ থেকেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত।
বিস্ফোরণের পর খনির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা আটকা পড়েন। শুক্রবার সকালে বেলুচিস্তান প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া খনির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ।
অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সরকারি খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ বলেন, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লাখনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, বিশেষায়িত খনি উদ্ধারকারী দল এবং অন্যান্য জরুরি সেবার সদস্যরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে কাজ করছেন।
পাকিস্তানের কয়লাখনিতে এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের অনেক খনিতে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্যাস পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক খনির মালিক নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করেন না এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামও সরবরাহ করেন না।
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও এটি দেশের অন্যতম অনুন্নত অঞ্চল। উচ্চ বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে হাজার হাজার মানুষ জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কয়লাখনিতে কাজ করতে বাধ্য হন। ফলে নিরাপত্তা অবহেলার কারণে প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক