হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটের গোলাপগঞ্জে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে তাদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জ পৌরসভার গেটে পৌঁছালে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির নেতাদের বহর পৌরসভা গেটের সামনে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘এনসিপি, ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে কেন্দ্রীয় নেতারা পৌরসভা ভবনের হলরুমে প্রবেশ করলে স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত সাত শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভা পরিচালনা করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, পোশাকধারী ১৬ জন র্যাব সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আরও ১০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া শতাধিক পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন।
এনসিপি জানিয়েছে, ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশে পদযাত্রা কর্মসূচি চলছে। গোলাপগঞ্জের কর্মসূচি শেষে বিকেলে কানাইঘাট এবং রাতে ওসমানীনগরে পদযাত্রা ও সমাবেশ করার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেট সফরে অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, কর্মসূচিতে উসকানিমূলক বা মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তারা প্রতিবাদ করবেন। তবে এনসিপি তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক