আগামী ফুটবল বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ নেওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ফিফা ও উয়েফার মধ্যে নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন সাপেক্ষে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে ফিফা। এই পরিকল্পনায় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের কাঠামো তৈরি হলেও টুর্নামেন্টের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ফিফার কাছেই থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফুটবলের সত্তা, পরিচালনা ব্যবস্থা কিংবা বিশ্বকাপ কোনোভাবেই কেনাবেচার সম্পদ নয়। সংস্থাটির মতে, ফুটবলের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করা উচিত নয় এবং এ ধরনের উদ্যোগ ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
উয়েফা আরও বলেছে, এই পরিকল্পনায় কারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই। তাদের ভাষ্য, ফুটবলের মালিক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়, তাই বিশ্বকাপ বা ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অধিকারও কারও নেই।
অন্যদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আর্থিক সক্ষমতা যেন বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নে কাজে লাগে, সেটিই ফিফার মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ফুটবল উন্নয়ন নিশ্চিত করাই ফিফার দায়িত্ব।
ফিফার দাবি, তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগ যুক্ত হলে সদস্য দেশগুলো ফুটবল উন্নয়নের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিকীকরণ আরও বাড়বে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সভাপতি হওয়ার পর থেকেই ফিফা ও উয়েফার মধ্যে বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা গেছে। বিশ্বকাপ আয়োজন, ক্যালেন্ডার এবং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই সংস্থার বিরোধ নতুন নয়। সর্বশেষ এই বিতর্ক সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
কসমিক ডেস্ক