কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জগতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতি। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং নতুন এআই মডেল উন্মোচনের পর এই বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষ করে চীনের স্টার্টআপ Moonshot AI তাদের নতুন কিমি K3 মডেল উন্মুক্ত করার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ‘ডিস্টিলেশন’ হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে বড় ও শক্তিশালী এআই মডেলের তথ্য ব্যবহার করে ছোট মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে কম খরচ ও কম কম্পিউটিং শক্তি ব্যবহার করেই উন্নতমানের এআই তৈরি করা সম্ভব হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিনির্ধারক অভিযোগ তুলেছেন, চীনের কিছু প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতি ব্যবহার করে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উন্নত মডেল থেকে সুবিধা নিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওস দাবি করেছেন, Moonshot AI তাদের Kimi K3 মডেল তৈরিতে Anthropic-এর Claude মডেলের তথ্য ব্যবহার করেছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে এখনো প্রকাশ্য কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে NVIDIA, Microsoft, Meta এবং Palantirসহ ২০টির বেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক যৌথ চিঠিতে জানিয়েছে, ডিস্টিলেশন এআই উন্নয়নের একটি স্বাভাবিক ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। তাদের মতে, এ প্রযুক্তির ওপর আগাম কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে।
এছাড়া Google-এর এআই প্রধান জেফ ডিনও উল্লেখ করেছেন, ডিস্টিলেশন বড় মডেলের দক্ষতা ছোট মডেলে স্থানান্তরের একটি কার্যকর উপায়।
তবে Anthropic ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাদের Claude মডেলের তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের শামিল এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিস্টিলেশন নিজেই কোনো অবৈধ প্রযুক্তি নয়। তবে অনুমতি ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের মডেলের তথ্য ব্যবহার করা হলে তা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে এআই খাতে এই প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক