ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নবগঠিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র চলমান আন্দোলনকে ঘিরে বিদেশি অর্থায়নের নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এ ব্যাপারে বলার মতো কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল, আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগের পক্ষে তাদের হাতে কোনো তথ্য নেই।
গত ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিৎ দীপ অনলাইনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠন করেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হলেও পরে এটি আন্দোলনমুখী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
এর আগে ৭ মে দিল্লির যন্তর-মন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রথম কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে সেই কর্মসূচিতে অংশ নেন অভিজিৎ দীপ। এরপর থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা যন্তর-মন্তরকে কেন্দ্র করেই ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।
আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয় ২৮ জুন, যখন অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক সিজেপির দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন। পরে ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর আন্দোলন দিল্লির বাইরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলতে থাকায় এর অর্থের উৎস নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদেশি অর্থায়ন ও বহিরাগত প্রভাবের অভিযোগ ঘুরে বেড়ালেও আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। যন্তর-মন্তরে এক শিক্ষার্থীর হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের কেউ অর্থ দিচ্ছে না। সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা বিনা পয়সায় আন্দোলন করছি।’
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত বিদেশি অর্থায়নের কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও সরকারি অবস্থান স্পষ্ট—এ অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
কসমিক ডেস্ক