বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতু ধসে পড়ার ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটি দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের উদ্যোগে এবং অন্যটি বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার সরকার জানান, স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঠিকাদারের অনিয়ম ও অবহেলার কারণেই সেতুটি ধসে পড়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দায়ভার ঠিকাদারকেই বহন করতে হবে, যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়।
দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে ঠিকাদারের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন প্রকল্পের আওতায় খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের আহম্মদকাঠী খালের ওপর সেতুটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। বরিশালের ডায়নামিক আইসিটি এসপি নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি।
পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গৌরনদীর ঠিকাদার আবুল খায়ের আগের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন। চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হয়নি। এরপর চলতি মাসে আবার কাজ শুরু করে সেতুর দুই পাশের স্লাব ঢালাই শেষে মাঝের স্লাবে ঢালাই দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর মাঝের স্লাবে ঢালাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি। গত বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে যায়।
গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খোকন চন্দ্র বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের আগে তাকে অবহিত করে তার উপস্থিতিতে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু তাকে না জানিয়েই ঠিকাদার কাজ করেন। তার মতে, এটি অনিয়মের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে ঠিকাদার আবুল খায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঢালাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি।
কসমিক ডেস্ক