মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে এই প্রণালী দিয়ে ‘এক ফোঁটা’ তেল বা গ্যাসও পরিবহন করতে দেওয়া হবে না।
সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। আইআরজিসির এই বক্তব্যের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, মার্কিন সামরিক চাপের মধ্যে জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করার সময় হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর উভয় জাহাজ সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।
তবে ইরানি বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, নাবিকদের অবস্থা কিংবা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এছাড়া এই ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালী আর নিরাপদ নৌপথ হিসেবে বিবেচিত হবে না। এমনকি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, অপরিশোধিত তেল কিংবা প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জন্যও এই পথ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছে ইরান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে শিগগিরই সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যদিও সেই অভিযানের ধরন বা সময় সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে আইআরজিসির এই নতুন হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই সামুদ্রিক রুটে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ, এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।
কসমিক ডেস্ক