বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি মাইকেল ওলিসের। তবে গোল করতে না পারলেও সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন ফ্রান্সের এই তরুণ তারকা।
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্ট করেন ওলিসে। তার নিখুঁত পাস থেকেই জোড়া গোল করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে হেরে যায় ফ্রান্স, তবু ব্যক্তিগত অর্জনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এই দুই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ওলিসের মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭। এর মধ্য দিয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের দখলে। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ৬টি অ্যাসিস্ট করে তিনি যে কীর্তি গড়েছিলেন, ৫৬ বছর পর সেটিই ভেঙে দিলেন ওলিসে।
বিশ্বকাপে গোল না করেও এমন অনন্য অর্জন ফুটবল ইতিহাসে বিরল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সৃজনশীল মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে সতীর্থদের জন্য একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি।
ক্লাব ফুটবলেও দারুণ ছন্দে ছিলেন ওলিসে। সর্বশেষ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২২টি গোলের পাশাপাশি ২৬টি অ্যাসিস্ট করে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতাই তিনি ধরে রেখেছেন বিশ্বকাপের মঞ্চেও।
এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতাদের তালিকায় এখন দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছেন পেলে। তাদের পর যৌথভাবে পাঁচটি করে অ্যাসিস্ট নিয়ে রয়েছেন পোল্যান্ডের রবার্ট গ্যাদোচা, পশ্চিম জার্মানির পিয়েরে লিটবার্স্কি, আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং জার্মানির থমাস হাসলার।
ফ্রান্স ব্রোঞ্জ জিততে না পারলেও ওলিসের এই কীর্তি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কসমিক ডেস্ক