গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা তার নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি গাইবান্ধায় রামমূর্তিসহ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা দাবি করেছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, মন্দির নির্মাণ ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিজস্ব উপাসনালয় নির্মাণ, রক্ষা ও সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও অংশগ্রহণ ছিল। সরকার গঠনের আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান নির্মল রোজারিও।
ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মন্দিরে কত উচ্চতার মূর্তি নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে আইনে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। বিতর্কিত মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ছিল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। এরপরও মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংখ্যালঘুদের ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ সবসময় দেখা যায় না।
যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহার সঞ্চালনায় সমাবেশে সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমন্ত আই কোরাইয়া, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অতুল মণ্ডলসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া হুন্ডি এবং প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়েও তদন্ত চলছে।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হরিদাস চন্দ্র ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
কসমিক ডেস্ক