সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা, The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা,

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 13, 2026 ইং
সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা, ছবির ক্যাপশন:

সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দুই দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ দেশের কয়েকটি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, সকাল ৯টা পর্যন্ত সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি তিনটি জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকায় পানির উচ্চতা বেড়েছে। আগামী দুই দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিনে গিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া যাদুকাটা, ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য নদীতেও পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাবেই সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

উত্তরাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে এবং আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদী সতর্কসীমার ওপরে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাগট, আত্রাই, আপার আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র। বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে থাকায় ওইসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি গেজ স্টেশনের মধ্যে ৮০টি পয়েন্টে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৪টি পয়েন্টে কমেছে এবং বাকি স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সই, এবার নজর বাস্তবায়নে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সই, এবার নজর বাস্তবায়নে