সীতাকুণ্ডে ২ শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সীতাকুণ্ডে ২ শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 13, 2026 ইং
সীতাকুণ্ডে ২ শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত ছবির ক্যাপশন:

টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ২০০টিরও বেশি বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গিয়ে শত শত মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা সীতাকুণ্ডে অবস্থিত আবুল খায়ের স্টিল মিলের বিরুদ্ধে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ এবং প্রাকৃতিক খালের গতিপথ পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণের সময় প্রাকৃতিক খাল ও জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বের হতে না পেরে সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। তাদের ভাষ্য, এটি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট একটি "মানবসৃষ্ট বন্যা"।

ভারী বর্ষণের পর সোনাইছড়ি ও খামারবাড়ি গ্রামের বাগুলা বাজার থেকে খামারবাড়ি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫০টি পরিবারের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি নিকটবর্তী ত্রিপুরা আদিবাসী বসতির আরও প্রায় ৫০টি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ঘরের ভেতরে কোমরসমান পানি উঠে যাওয়ায় আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শনিবার (১১ জুলাই) রাত থেকে অনেক পরিবার রান্না করতে পারেনি। কাদা ও বন্যার পানিতে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আবুল খায়ের শিল্প কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের সময় রেললাইনের পাশের একটি সরকারি খালের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং পানি নিষ্কাশনের নালাগুলো ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শনিবার রাতে কারখানার ভেতরে জমে থাকা পানি বাইরে ছেড়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে রোববার (১২ জুলাই) সকালে শত শত বাসিন্দা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে স্থায়ী সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে ১৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি আবেদন জমা দিয়েছেন বলে জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভরাট করা খাল ও নালা পুনঃখনন, পাহাড় কাটা বন্ধ, রাসায়নিক বর্জ্য ও ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।

তবে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তার দপ্তরে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত দল পাঠানো হবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কারখানার কার্যক্রমের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে আবুল খায়ের স্টিল প্ল্যান্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইমরুল কায়েস ভূঁইয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের অন্যান্য এলাকার মতো তাদের কারখানার ভেতরেও পানি জমেছে। তবে খালের গতিপথ পরিবর্তন বা জলাধার ভরাটের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বাজেটে বাড়ছে সব স্তরের সিগারেটের দাম

বাজেটে বাড়ছে সব স্তরের সিগারেটের দাম