যে ৩ কারণে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যে ৩ কারণে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 18, 2026 ইং
যে ৩ কারণে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ছবির ক্যাপশন:

কয়েক সপ্তাহের টানটান কূটনৈতিক আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও স্থায়ী শান্তির পথে এখনো বড় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা থাকলেও এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এতে সই করেছেন বলে জানা গেছে। ১৪ দফার এই প্রাথমিক চুক্তিকে ভবিষ্যৎ পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষকে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। এই সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না গেলে পুরো প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।

সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ শিথিল, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে অগ্রগতি দেখিয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। অপরদিকে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এটি চূড়ান্ত চুক্তি নয় এবং আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি বড় ইস্যু এই সমঝোতাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

প্রথমত, লেবানন ইস্যু। চুক্তিতে লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ইরান দাবি করছে, ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণভাবে লেবানন থেকে সরে না গেলে প্রকৃত শান্তি সম্ভব নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অবস্থান চুক্তির আওতার বাইরে। এই অবস্থানগত দ্বন্দ্ব নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। চূড়ান্ত আলোচনায় এর নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে সমঝোতা না হলে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে এটি কার্যত বন্ধ থাকলেও এখন পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা, মাইন অপসারণ এবং টোল ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনটি ইস্যু সমাধান না হলে চলমান কূটনৈতিক অগ্রগতি ভেস্তে যেতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৬০ দিনের আলোচনা তাই এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ না করলে মিলবে না পে-স্কেল

সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ না করলে মিলবে না পে-স্কেল