দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯০১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং পরীক্ষার মাধ্যমে ১২৮ জনের হাম সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামে মোট ৬৫৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে মোট ৯৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জনে।
এদিকে একই ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১২৮। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩২৬ জন।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে মোট ৯২ হাজার ৮৩১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৩৪ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকার পূর্ণ ডোজ পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং কয়েক দিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। জটিল ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণসহ বিভিন্ন গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কোনো শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হলে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক