বিশ্বকাপের শিরোপার স্বপ্ন শেষ হলেও সম্মান নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার সুযোগ এখনো রয়েছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের সামনে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি।
ম্যাচের আগে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার ফ্রান্সকে এগিয়ে রেখেছে। ২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৫০.৭ শতাংশ। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ২৫.৬ শতাংশ, আর ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৩.৭ শতাংশ।
ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় দলের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের দায়িত্বে এটি শেষ ম্যাচ। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ফ্রান্সকে ২০১৮ বিশ্বকাপ শিরোপা, ২০২২ সালের ফাইনাল এবং এবার সেমিফাইনালে তুলেছেন। বিদায়ী ম্যাচে জয় দিয়ে দায়িত্ব ছাড়তে চান অভিজ্ঞ এই কোচ।
ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনেও রয়েছে ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার সুযোগ। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি বর্তমানে লিওনেল মেসির সঙ্গে সমান আট গোল করেছেন। তবে চারটি অ্যাসিস্ট থাকায় এগিয়ে আছেন মেসি, যেখানে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট তিনটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারলে গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জয়ের অনন্য কীর্তিও গড়তে পারেন তিনি।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গুরুত্ব নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর তিনি বলেন, প্রতিটি খেলোয়াড়ের লক্ষ্য ছিল ফাইনালে ওঠা ও বিশ্বকাপ জেতা। তবে বাস্তবতা মেনে নিয়েই শেষ ম্যাচে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে দল।
দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। প্রথম দুইবার ১৯৬৬ ও ১৯৮২ সালে জিতেছিল ইংল্যান্ড। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় ফ্রান্স। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ নয় দেখায় ফ্রান্স জিতেছে ছয়বার, ইংল্যান্ড মাত্র একবার এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
চোটের কারণে ফ্রান্সের উইলিয়াম সালিবা ও ব্রিস সাম্বা এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। ইংল্যান্ডের দলে থাকছেন না জর্ডান হেন্ডারসন, আর রিস জেমসের খেলাও অনিশ্চিত। ফলে দুই দলই একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকায় এমবাপ্পের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা খুবই বেশি। ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামও ব্যক্তিগত অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে পারেন।
কসমিক ডেস্ক