চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়কে পাহাড়ধস, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়কে পাহাড়ধস, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 9, 2026 ইং
চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়কে পাহাড়ধস, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত ছবির ক্যাপশন:

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের প্রভাবে রাঙামাটিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়ক এবং কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা–বাঙ্গালহালিয়া সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জরুরি উদ্যোগে মাটি অপসারণ করে এক পাশ দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে পৃথক সময়ে এ দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও সড়ক বিভাগ জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়কের সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে সড়কের ওপর পড়ে। মুহূর্তেই সড়কে বিশাল মাটির স্তূপ জমে যাওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

খবর পেয়ে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও মাটি অপসারণের কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর সড়কের এক পাশ আংশিকভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়। এরপর ছোট যানবাহন সীমিত পরিসরে চলাচল শুরু করে। তবে দুপুর পর্যন্ত ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় পুরো সড়ক পরিষ্কারের কাজ অব্যাহত ছিল।

এর আগে একই দিন সকাল ছয়টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়নের মতিপাড়া এলাকায় চন্দ্রঘোনা–বাঙ্গালহালিয়া সড়কেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সেখানেও সড়কের ওপর মাটি ও ধ্বংসাবশেষ জমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদ্যোগে সড়কের এক পাশ পরিষ্কার করে ছোট যানবাহন চলাচলের সুযোগ তৈরি করা হয়।

রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংক্য মারমা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ে। রাতের কোনো এক সময় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে সড়কের ওপর পড়ে যায়। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, পাহাড়ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রথমে রাজস্থলী ও চন্দ্রঘোনা–বাঙ্গালহালিয়া সড়কের দিকে টিম রওনা দিলেও পরে সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় নতুন করে পাহাড়ধসের খবর আসে। ফলে একাধিক স্থানে একযোগে মাটি অপসারণের কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ি সড়কগুলোতে নতুন করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়ে গেছে। তাই চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি সড়কে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় প্রায় প্রতিবছরই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন ও টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বনশ্রীতে ভাড়া বাসায় কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বনশ্রীতে ভাড়া বাসায় কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার