বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য জরুরি নির্দেশনা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য জরুরি নির্দেশনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 5, 2026 ইং
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য জরুরি নির্দেশনা ছবির ক্যাপশন:

দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে গত ১ জুলাই জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক।

নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতি শিফটে ন্যূনতম পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোগীরা নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা পান।

এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

তৃতীয়ত, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হবে এবং চতুর্থত, নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

পঞ্চমত, কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে বা ভুয়া তথ্য প্রদান করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে।

এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। এতে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স