রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক দশক পূর্ণ হলেও বহুল আলোচিত মামলাটির চূড়ান্ত বিচার এখনো শেষ হয়নি। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত ওই হামলায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২০ জন নিহত হন। হামলা প্রতিরোধে অভিযানে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান দুই পুলিশ কর্মকর্তাও।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় অতিরিক্ত সাজাও দেওয়া হয়। তবে বিচারিক আদালতের রায়ের পর আইন অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয় এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও আপিল করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৩ সালে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ পরিবর্তন করে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আসামিরা সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও বাস্তবায়নে সহায়তার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনের যথাযথ ব্যাখ্যা বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ডই উপযুক্ত বলে আদালত মত দেন।
বর্তমানে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের করা লিভ টু আপিল আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসলাম হোসেন নিহত হন।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, বিচারকসংকটসহ বিভিন্ন বাস্তব কারণে সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব না হলেও হলি আর্টিজান মামলার শুনানি দ্রুত এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রপক্ষ উদ্যোগ নেবে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
২০১৬ সালের ওই হামলার পর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করলেও তৎকালীন সরকার হামলার জন্য দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবিকে দায়ী করে। এক দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের অন্যতম আলোচিত এই সন্ত্রাসবাদ মামলার চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।
কসমিক ডেস্ক