শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
শুক্রবার সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘লিডার্স ট্রেনিং সেমিনার’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ব নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। এজন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যসূচিতে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তর থেকেই দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এতে করে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থানের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবে।
এছাড়া তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন পাস হওয়ায় এখন থেকে ডিজিটাল নকলসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি প্রতিরোধে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, সবাইকে শুধু উচ্চশিক্ষার দিকে ঠেলে দিয়ে বেকারত্বের চাপ তৈরি করা যাবে না। বরং শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
সরকারের এই উদ্যোগকে শিক্ষাখাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক হলে ভবিষ্যতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বেকারত্ব হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কসমিক ডেস্ক